কণ্ঠস্বর
মুহাম্মদ তফিজ উদ্দিন
হে জ্বলন্ত কণ্ঠস্বর—
ফাগুনের শিমুলে,
কর্ণের সমুদ্রস্রোতে,
ঝড়ের দমকা সুরে
জ্বেলে লুকিয়ে আছ কোথায়?
সেদিন—
কণ্ঠ ছিল আকাশ,
বাংলার মাটি ছিল উচ্চারণ,
জনগণ ছিল শ্যামল ক্ষেত—
এক নিমেষে বুকে বুকে
দাবানলের মতো উঠেছিল স্বাধীনতার ঢেউ।
সে কণ্ঠে ছিল না কেবল শব্দ—
ছিল বজ্রবিদীর্ণ রাতের চিৎকার,
ছিল আগ্নেয়গিরির গর্ভে জমে থাকা লাভা,
ছিল সূর্যের চোখে চোখ রেখে
দাসত্বের মুখে ছুড়ে দেওয়া অগ্নিচুম্বন।
ছিল বারুদের গন্ধমাখা বাতাস,
ছিল রক্তজবার মতো লাল প্রত্যয়,
ছিল শৃঙ্খল ভাঙার শব্দে
পৃথিবীর পুরোনো প্রাসাদ কাঁপিয়ে দেওয়া
লাখো মুঠির মহাগর্জন।
ঢাকা তখন শহর ছিল না—
ছিল পৃথিবীর উত্তাল সমুদ্র;
প্রতিটি মানুষ একেকটি জলোচ্ছ্বাস,
প্রতিটি বুক একেকটি জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড,
অন্তরচোখে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য!
কণ্ঠ বলেছিল—
আর কোটি কণ্ঠ হয়ে উঠেছিল তার প্রতিধ্বনি;
বাঁশের কঞ্চিও তখন
অন্যায়ের বুকে বিদ্যুৎ হয়ে নেমেছিল,
মুঠি মুঠি মানুষ হয়ে উঠেছিল
জ্বলন্ত ইতিহাসের অস্ত্র।
ভয় সেদিন পালিয়েছিল
পদধ্বনির দাবানলে,
অন্ধকার পুড়েছিল মানুষের চোখে;
আর ইতিহাস—
নিজের বুকের রক্ত দিয়ে লিখেছিল
একটি জাতির জেগে ওঠার নাম।
সেই কণ্ঠ আজও খুঁজি—
অন্যায়ের দেয়ালে আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে ওঠে,
ঘুমন্ত বিবেকের দরজায় বজ্রাঘাত করে;
কারণ কিছু ভাষণ শেষ হয় মঞ্চে,
আর কিছু কণ্ঠস্বর—
একটি জাতির রক্তে
অনন্ত দাবানল হয়ে বেঁচে থাকে।
কণ্ঠস্বর